ব্যাংক অব আমেরিকার প্রতিবেদন

এআইয়ের প্রসার সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের চাহিদা কমার আভাস

বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসার বাড়ছে। এ প্রযুক্তি সচল রাখতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের দরকার পড়ে।

বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসার বাড়ছে। এ প্রযুক্তি সচল রাখতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের দরকার পড়ে। প্রয়োজনীয় এ বিদ্যুৎ উৎপাদনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার কথা। তবে নতুন একটি গবেষণা বলছে, জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছবে। এরপর তা নিম্নমুখী বা স্থিতিশীল হতে পারে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক নোটে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে ব্যাংক অব আমেরিকা (বিওএফএ)। খবর বিজনেস ইনসাইডার।

বিওএফএর নোট অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এআই ও ডাটা সেন্টারের ব্যবহার বাড়ছে। তবে আমাদের বিশ্বাস, বৈশ্বিক জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির হার ২০৩০ সালের মধ্যে বছরপ্রতি ৩ শতাংশের নিচে থাকবে। ফলে জ্বালানি তেলের ব্যবহার বার্ষিক ১ শতাংশের বেশি বাড়বে না।

বিভিন্ন গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি এ শতকের প্রথম দশক থেকে উল্লেখযোগ্য কমছে। সে সময় প্রবৃদ্ধির হার ছিল গড়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি দশকে তা কমে ৪ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরবর্তী কয়েক বছরে চীন ও ইউরোপের দেশগুলোয় কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারকে ৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে আটকে থাকবে।

ব্যাংক অব আমেরিকা বলছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীরগতি বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ২০২৫ সালে পণ্যটির চাহিদার পরিমাণ হতে পারে দৈনিক গড়ে ১১ লাখ ব্যারেল। চলতি দশকের শেষে তা দৈনিক গড়ে চার লাখ ব্যারেলে নেমে যেতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এ পরিস্থিতিতে কিছুটা ভিন্নতা বজায় রাখতে পারে। দেশটি চলতি দশকেও শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখবে। এআই ও ডাটা সেন্টারের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে অঞ্চলটিতে বিদ্যুতের চাহিদা গত দুই দশকের সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, এর পরও জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম। বরং নবায়নযোগ্য জ্বালানি এ খাতের চাহিদা বৃদ্ধির বড় অংশ পূরণ করবে। চলতি বছর সৌরশক্তির ব্যবহার সবচেয়ে দ্রুত বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিওএফএ জানায়, বিশ্বব্যাপী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি জ্বালানি তেলের চাহিদা হ্রাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন (ইভি) ও বায়ুবিদ্যুৎ খাতে কোনো বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন করলেও বিশ্বব্যাপী নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধির গতি শক্তিশালী ধারা বজায় রাখবে।

প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, সৌদি আরবও বিদ্যুৎ খাতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ব্যবহার দ্রুত কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে দেশটি।

আরও